গত মাসে আমরা ঢাকার চল্লিশটি পরিবারকে একটি প্রশ্ন করেছিলাম: গত এক বছরে কোন একটি খেলনা প্রতিদিন ব্যবহারে রয়েছে এবং এখনও অক্ষত আছে? আমরা ভেবেছিলাম উত্তরে দামি কিংবা ইলেকট্রিক খেলনার নাম আসবে; এলো না।

সাতচল্লিশটি পরিবারের একটা একটি খেলনার নাম বলেছে যার দাম তিন হাজার টাকার কম, আর যার কোনো ব্যাটারি নেই। এই লেখায় আমরা দেখব কেন এমন হয়, এবং কেনার সময় কোন তিনটি জিনিস আসলে গুরুত্বপূর্ণ।

ওজনই প্রথম শর্ত

হালকা খেলনা শিশুর হাতের ধাক্কায় সরে যায়, উলটে পড়ে, আর শিশু আগ্রহ হারায়। ভারী তলা থাকলে খেলনাটি জায়গাতে থাকে — শিশু তখন খেলনাটিকে সামলানোর বদলে খেলনাটি নিয়ে ভাবতে পারে।

“আমার ছেলে যতবার রিং ঢুকিয়েছে, ততবারই ঠিকঠাকভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। ওটাই আসল ব্যাপার।” — মানসিল, ২ বছরের বাবা

খেলনা যত কম কাজ করে, শিশু তত বেশি করে

একটি খেলনা যদি নিজেই আলো জ্বালায়, গান গায় আর কথা বলে, তবে শিশুর করার মতো কিছু থাকে না — সে দর্শক হয়ে যায়। ওপেন-এন্ডেড খেলনায় গল্পটা শিশু নিজে বানায়, তাই একই খেলনা ছয় মাস পরেও নতুন লাগে।

কেনার আগে তিনটি জিনিস দেখুন

  • ওজন: খেলনাটি টেবিলে রেখে এক আঙুলে ধাক্কা দিন — সহজে গেলে শিশুর হাতেও সরবে।
  • রং ও ফিনিশ: পানিতে ভিজিয়ে, খাদ্য-নিরাপদ রং কি না লেবেলে লেখা আছে দেখুন; শক্ত বার্নিশ এড়িয়ে যান।
  • খুলে যাওয়া অংশ: ছোট আলাদা অংশ থাকলে তিন বছরের নিচে ব্যবহার করবেন না।

আমাদের নিজেদের কেনাকাটার তালিকায় এই তিনটি শর্ত না মিললে খেলনাটি শেলফে ওঠে না। প্রতিটি ব্যাচে আমরা টান, ঝোঁক ও কামড়ের পরীক্ষা করি, আর রঙের নমুনা আলাদা করে রাখি।

শেষ কথা

কম খেলনা, ভারী তলা, কম ফিচার — এই তিনটি নিয়ম মানলে খরচ কমে আর খেলার সময় বাড়ে। আর হ্যাঁ, শিশুর নয়টির খেলনাটি সাধারণত সবচেয়ে সাদামাটাটাই হয়।